রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট, পাম্পের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তিতে জনজীবন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিভাগীয় নগরী রংপুর-এ জ্বালানি তেলের সংকট কোনোভাবেই কমছে না, বরং তেলের জন্য চরম হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর ৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলেও শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোবাইল কোর্টের নামে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় জোর করে জরিমানা আদায় করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২/১টি ফিলিং স্টেশন নিয়মিত তেল পেলেও বেশিরভাগ স্টেশন ৪ থেকে ৬ দিন পরপর জ্বালানি পাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ তেল পাওয়া যাচ্ছে এবং নগরীতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালু করা এবং আগাম ঘোষণা ছাড়া ট্রাফিক পুলিশের এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সরেজমিনে বুধবার নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেশনেই “তেল নেই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন এবং প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিশাল অপেক্ষমাণ সারি।
স্টেশন কর্মচারীরা জানান, বিভিন্ন ডিপো থেকে তেল আনতে ট্যাংক লরির জন্য দুই দিন ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কখন আসবে তা নিশ্চিত নয়। তবে আসলে তেল সরবরাহ করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
সালেক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আফসার আলী জানান, ৫ দিন আগে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পাওয়া হয়েছিল, যা মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর গত ৫ দিন ধরে কোনো তেল পাওয়া যায়নি এবং কবে পাওয়া যাবে তাও ডিপো থেকে জানানো হয়নি।
একই ধরনের তথ্য জানিয়েছেন স্টেশন রোডের রহমান পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীরা। তারা বলেন, চার দিন আগে পেট্রোল পাওয়া গেলেও অকটেন সরবরাহ করা হয়নি। পরবর্তী সরবরাহ কবে হবে তা অজানা।
ইউনিক ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে কেন দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
এদিকে বুধবার কয়েকটি পাম্পে তেল আসার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর বিক্রি শুরু হবে বলে জানানো হয়। তবে ট্যাংক লরি আসার সময় নিশ্চিত না হওয়ায় শত শত মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকে।
এ বিষয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) রমিজ আলম জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই, এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিক ট্রেডার্সে বুধবার থেকে প্রতি মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল বিক্রি শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান মজুত খুব বেশি হলে বিকেল পর্যন্ত চলবে।
ফিলিং স্টেশনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদেরও দেখা যায়, যারা ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তেল সরবরাহ তদারকি করছেন। হ্যান্ডমাইক দিয়ে এ বিষয়ে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হেলমেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আলমনগর এলাকার সাহেব আলী অভিযোগ করে বলেন, তার হেলমেট না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা আগে থেকে ঘোষণা দেওয়া উচিত ছিল।
অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত ডিসি (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে তাদের তেল নিতে দেওয়া হচ্ছে, আর যাদের কাগজপত্র নেই তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। এতে অবৈধ ভিড় কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, আগে থেকে কোন স্টেশনে কখন তেল দেওয়া হবে তা জানানো হচ্ছে না, ফলে সম্পূর্ণ সমন্বয়হীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর কারণে গ্রাহকরা শহর ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্টেশনে ছুটে গেলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে তেল পাচ্ছেন না।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে