সর্বশেষ

জাতীয়রাষ্ট্রপতি পদে খন্দকার মোশাররফের নাম জোরালো, আলোচনায় নজরুল ইসলাম খানও
নতুন মন্ত্রিসভা ছোট আকারে, গুরুত্ব পেতে পারেন প্রবীণ-নবীন ও দক্ষ নেতারা
জুলাই জাতীয় সনদে আজ সই করছে এনসিপি
সারাদেশশেরপুরে দরিদ্রদের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৬
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান: নেশাজাতীয় সিরাপসহ আটক ১
নারায়ণগঞ্জে দুই স্থানে লাশ উদ্ধার: সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত নারী, সোনারগাঁয়ে যুবক নাঈম খুন
ভোটারদের হুমকি–মারধরের অভিযোগে বেলকুচিতে দুই বিএনপি নেতার পদ স্থগিত
কুড়িগ্রামে সাবেক সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে বিএনপি কর্মীসহ আহত ৫
হিলিতে নিজ শয়নকক্ষ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
আন্তর্জাতিকট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ থেকে সহায়তার আশ্বাসের মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১১
খেলাপাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত
ফেবু লিখন

স্মৃতি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ 

কাজী আখতার হোসেন
কাজী আখতার হোসেন

রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেব। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর দিকে দিকে গণতন্ত্রের জয়ধ্বনি। এরশাদ সরকারের পতনের পর চারিদিকে এক ধরনের প্রশান্তির বাতাস তখনো যেন। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের সরকার ২৭শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ধার্য করেছেন।

আমি বরিশালের বৃহত্তম উপজেলা বাকেরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মাঠ পর্যায়ে আমার ব্যাচমেটদের বেশিরভাগই তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সভার পর সভা করে যাচ্ছি। নির্বাচনের চাপ আলটিমেটলি যেয়ে পড়ে ইউএনও বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উপরে। সভা করতে যাই বরিশাল এবং তখনকার বিভাগীয় শহর খুলনাতে। বরিশাল তখনও বিভাগ হয়নি। খুলনাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ বললেন নানা মহল থেকে প্রস্তাব এসেছিল রিটার্নিং অফিসার কিংবা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ডিসি এবং ইউএনও বাদ দিয়ে অন্যদের দেয়ার জন্য। সভায় নিম্ন সুরে গুঞ্জন শুরু হল। আসলে এই বিষয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা আছে। আমি তো বলি একবার করেই দেখুন না। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছিল নানামুখী উত্তাপ ও বাড়ছিল একটু একটু করে।

একবার দপদপিয়া ফেরিঘাট পার হয়ে ড্রাইভার আলম কেবলমাত্র গাড়ি ছেড়েছে লক্ষ্য করলাম দুইজন প্রবীণ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। জিজ্ঞেস করায় জানতে পারলাম গাড়ি ঘোড়া পাচ্ছেন না তাই তারা বাকেরগঞ্জ যেতে পারছেন না। আমি উনাদের চিনিও না। বললাম ঠিক আছে আমার গাড়ির পিছনে উঠে বসুন। ঘটনা এটুকুই। পরদিন অফিসে যেয়ে জানতে পারলাম কেউ কেউ নাকি বলছেন ইউএনও সাহেব তো অমুক প্রার্থীর লোকজনকে নিয়ে গাড়িতে ঘুরে বেড়ান।

নদী খালের দেশ বরিশাল। আমার বেশিরভাগ ইউনিয়ন গুলো নদীর মধ্যে। একটা নদী শেষ হয়তো আর একটা নদীর মুখ দেখা যায়। প্রিজাইডিং অফিসার সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং অফিসার নিয়োগ করার পর সেগুলো ঠিকই তাদের হাতে পৌঁছে যায়। আমার কাছে মনে হতো নদীপথে কিভাবে মানুষের হাতে এগুলো পৌঁছে দেয়া যায়। কিন্তু ঠিকই পৌঁছে যাই দেখি। যেখানে যেমন জীবন।

তখন ছিল সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ওই উপজেলা। মানুষের আকৃতি প্রকৃতি ও বিভিন্ন রকম। অনেকেই দীর্ঘদেহী। শোনা যেত পর্তুগিজ নাবিকদের অনেকেই এখানে বসবাস করে বংশ বিস্তার করেছিলেন। দুর্ধর্ষ প্রকৃতির উনারা। আমি একবার একসঙ্গে ৫-৭ জনের চোখ পুরোপুরি তুলে নেয়া দেখেছিলাম। ওরা ডাকাতি করতে গিয়েছিল এবং জনগণের হাতে ধরা পড়ে চোখ হারায়।একেবারে উপরিয়ে দিয়েছিল। এর বাইরে আশেপাশে বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থীরা ও ছিলেন। রাশেদ খান মেননকে যে গুলি করা হয়েছিল তোপখানা রোডে, গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে নিজ এলাকার চরমপন্থিরাও থাকতে পারেন বলে অনেকে মনে করতেন । যাক সেসব অন্য প্রসঙ্গ।

বরিশালে আমার জেলা প্রশাসক তখন জনাব নুরুল আলম খান। মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিত্ব। এখনো স্যারের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হয়। নির্বাচন উপলক্ষে সেনাবাহিনীর একজন মেজরের নেতৃত্বে একটি ট্রুপ পাঠানো হয় আমার উপজেলায়। ১৯৮৫ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা মশিউর রহমান স্বপন এবং মরহুম হাফিজুর রহমান মোল্লা সব সময় আমার সঙ্গে থাকতেন। আমি তখনও সংসার ধর্ম করিনি। ইউ এন ও বাংলাতেই আমরা কাটাতাম অনেক সময়। থানার ওসি ছিলেন আব্দুল গাফফার।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি সব কাজ মনিটরিং করে রাতের বেলায় বাসায় গেলাম। খেয়ে দেয়ে দোতলায় নিজের শোবার ঘরে গেলাম বিশ্রাম নেবার জন্য। মনের মধ্যে নানা চিন্তার আনাগোনা। কোথাও কোন কাজে গ্যাপ রয়ে গেল কিনা। টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কে জিজ্ঞেস করলাম আমার কোন খবর আছে কিনা। সেখানে কর্মরত মোস্তফা বললেন না স্যার কোন খবর নেই। মনে মনে ভাবছি যদি কোন ফোন না আসে তাহলে আমি খুশি তাহলে বুঝতে হবে কোন সমস্যা নেই।

রাত পোহালেই ২৭ শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন।একটু শব্দ হলেই আমি চমকে উঠি। ভাবি এই বোধহয় কোথাও কোন ভোটকেন্দ্র থেকে কেউ চলে এসেছেন অভিযোগ জানাতে যে কেন্দ্র দখল হয়ে গেছে। ইত্যাকার কত যে চিন্তা।
নিচের তলায় পিয়ন মনির ঘুমায়। দরজা খোলার কোন শব্দ শুনলাম নাকি! না কোন শব্দ নয় মনের ভুল। এভাবেই রাত কাটলো।

পরদিন যথারীতি নির্বাচন হয়ে গেল। ছোটখাটো কোন ঘটনাও ঘটেনি। বলা যায় এদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম একটি স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন। আলহামদুলিল্লাহ। দিনের শেষে রেজাল্ট আসা শুরু হল। রাত ১১:৩০ মিনিটের মধ্যে সব কেন্দ্রের ফলাফল পেয়ে গেলাম । জয়নাল আবেদীন সাহেব নামে এক প্রধান শিক্ষক তার কেন্দ্রে অপেক্ষা করছিলেন রাত হয়ে গেছে কি করবেন। আমি জরুরী সংবাদ দিলাম এখনই অবিলম্বে চলে আসুন।অনেক অসুবিধার মধ্যেও চলে এলেন তিনি।

মশিউর, হাফিজ, সেই মেজর সাহেব এবং ওসিসহ আমরা সারারাত জেগেই ছিলাম। এভাবেই ভোর হয়ে গেল। আমরা সবাই এক ধরনের তৃপ্তি ও আনন্দের মধ্যে পরস্পরের দিকে তাকালাম। নির্ঘুম রাত শেষে সকালবেলাতেই বরিশাল সদরের দিকে রওনা দিলাম।

 

লেখক: সাবেক সচিব।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)

৩৪৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন