সর্বশেষ

সারাদেশ

ফরিদপুরে বিধবার জমি জালিয়াতির ঘটনায় ৭ জনের কারাদণ্ড

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ ৪:০৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক অসহায় সংখ্যালঘু বিধবার ইজারা নেওয়া সরকারি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের চেষ্টায় ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং পিবিআইয়ের নিখুঁত তদন্তের পর বহুল আলোচিত এই ভূমি জালিয়াতি মামলা-র রায় ঘোষণা করা হলো। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ এক দশক পর অবশেষে ন্যায়বিচার ফিরে পেল।
বিধবার জমি জালিয়াতি

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. রকিবুল ইসলাম বিশ্বাস বৃহস্পতিবার এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত নথিপত্র, পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেছেন। জালিয়াতি করে সরকারি ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের সম্পত্তি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিতবানা গ্রামের বাসিন্দা মৃত গণেশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী লক্ষ্মী রাণী দাস। তিনি তার একমাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য পণ্ডিতবানা এলাকার ১৭১ শতাংশ সরকারি অর্পিত সম্পত্তি নিয়ম অনুযায়ী ইজারা নিয়ে খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। তবে কোটি টাকা মূল্যের এই জমির ওপর নজর পড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী আকবর মোল্লা ও তার চক্রের।

চক্রটি ২০১৬ সালে পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের খাজনা দাখিলা জাল করে ভুয়া সাব-কবলা দলিল তৈরি করে জমিটি দখলের চক্রান্ত করে। জমির প্রকৃত মালিকেরা ১৯৭১ সালেই ভারতে চলে যাওয়ায়, তাদের ভুয়া দাতা সাজিয়ে এই প্রতারণা করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সামনে এলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. জহুরুল হক বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত চালায়। তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, দলিলে উল্লিখিত দাতারা ঘটনার সময় বাংলাদেশে ছিলেন না এবং তাদের সই-টিপসই সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে পিবিআই ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মূল হোতা আকবর মোল্লাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া সহযোগী হুমায়ুন মোল্লাকে ৭ বছর এবং অপর পাঁচ আসামিকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইয়াকুব মোল্যা নামের একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী লক্ষ্মী রানী দাস। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, প্রভাবশালীরা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে উচ্ছেদ করার পর তারা অন্যের আশ্রয়ে ছিলেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তিনি ও তার সন্তান অন্তত শান্তিতে বেঁচে থাকার একটি অবলম্বন ফিরে পেলেন।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন