নবজাতক চুরির অভিযোগ অসত্য, দাবি বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একটি চুরির অভিযোগকে অসত্য বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা। তাঁদের দাবি, প্রসূতির চিকিৎসার নথি, আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, ওই প্রসূতির গর্ভে একটি সন্তানই ছিল। তবে আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে দুই সন্তানের তথ্য আসার পেছনে সংশ্লিষ্ট সনোলজিস্ট চিকিৎসক দিনা ও রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, এ ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় বিএমএর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন সংগঠন দুটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি ডা. ইস্কেন্দার হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা আক্তার নামের এক প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর জরায়ু থেকে একটি নবজাতক বের করা হয়। পরে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে তিনটি আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে একটি সন্তান এবং অন্য দুটি প্রতিবেদনে যমজ সন্তানের কথা উল্লেখ ছিল।
ডা. ইস্কেন্দার হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রসূতির স্বজনদের ডেকে একটি সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা জানানো হয়। প্রসূতিকেও বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হলে তিনি তা মেনে নেন। কিন্তু নবজাতককে বাইরে নেওয়ার পর স্বজনেরা দ্বিতীয় সন্তানের বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নবজাতক অপহরণের অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
বিএমএর এই নেতা আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে প্রসূতিকে কেবিনে পাঠানো হয়। এরপর চিকিৎসকেরা কর্মস্থল ত্যাগ করেন। আলট্রাসনোগ্রাফির প্রতিবেদনে ভুল তথ্য আসার পেছনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, যন্ত্রপাতির মান ও পরীক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দায় নির্ধারণের আগে বিস্তারিত তদন্ত করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. ইস্কেন্দার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বলাকা ক্লিনিকের একজন ওয়ার্ড বয়কে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আটক করা হয়েছে। ওই কর্মী অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা. ইস্কেন্দার হোসেন বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। পুলিশ প্রশাসন উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোনো ঘটনার যথাযথ তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হলে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ সময় নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুক্তার হোসেনসহ বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলট্রাসনোগ্রাফিতে যমজ সন্তান থাকার তথ্য এবং অস্ত্রোপচারের পর একটি নবজাতক পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নওগাঁয় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সন্তানের বাবা শান্ত ইসলাম বাদী হয়ে বলাকা ক্লিনিকের মালিক, দুই চিকিৎসকসহ অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান আজ দুপুরে জানান, এ ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় অস্ত্রোপচারকক্ষে কর্মরত জিহাদ ও নাহিদ ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
ওসি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি ঘটনার তথ্য উদ্ঘাটনে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে