পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমণির সময়ের আবেদন নাকচ করে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি চিত্রনায়িকা পরীমণি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর আইনজীবী পরবর্তী শুনানির জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানিতে বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানান। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন বাতিল করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরীমণির আইনজীবীর আবেদনে বলা হয়, এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ অবস্থায় সময় না দিলে আসামির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে পরীমণিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করতেন। পার্সেল নিলেও মূল্য পরিশোধ করতেন না। পাশাপাশি পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করতেন।
এজাহারে ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন নাসির উদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, রাত ১২টার পর পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন তাঁরা।
রাত সোয়া একটার দিকে নাসির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি তাঁদের ডাকেন এবং কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাঁকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয় এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, বিনা মূল্যে বোতল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালাগাল করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। এ ছাড়া পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।
প্রতিবেদনে পরীমণি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সময়ে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত।
অন্যদিকে, সাভারের বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমণিও নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ দুজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তাঁর করা মামলাটি বর্তমানে ঢাকার নবম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
১১১ বার পড়া হয়েছে