সাটুরিয়ায় পাঁচ মাস ধরে ভাঙা সড়ক, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এলজিআরডি বিভাগের নির্মাণাধীন একটি সড়কের মাঝখানে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে বড় ধরনের ভাঙন রয়েছে। এতে বরাইদ থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির মাঝখানে ভাঙন থাকলেও তা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে টানা বর্ষণে সড়কটির এক পাশে প্রথমে ভাঙন দেখা দেয়। তখন দ্রুত সংস্কার করা হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। কিন্তু সময়মতো মেরামত না করায় ভাঙন ক্রমেই বড় আকার ধারণ করে। বর্তমানে সড়কটির প্রায় পুরো অংশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এতে আশপাশের কয়েক গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য গোপালপুর বাজারে নিতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। উপজেলা সদরে যাতায়াতেও বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় সড়কটির এক পাশ দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও রাতে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অসাবধানতাবশত পা পিছলে ১৫ থেকে ২০ ফুট নিচের খাদে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা এলজিআরডি অফিসে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার ও আবু সাঈদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য সড়কটি তাঁদের সবচেয়ে সহজ পথ। কিন্তু ভাঙনের কারণে এখন ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতে পারছে না। দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকা মিয়া ও লাভলু ব্যাপারী বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় জমির উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটিই বাড়ছে। রাতে সড়কটি দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপন মাস্টার বলেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর এলজিআরডি বিভাগের পক্ষ থেকে মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। রাতের বেলায় মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তে পড়ে অনেক পথচারী আহত হয়েছেন। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরাও গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা এলজিআরডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, আগামী বাজেটে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙা অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ করা প্রয়োজন। আপাতত ‘আরএমপি’র নারী কর্মীদের মাধ্যমে মাটি কেটে ভাঙা অংশটি সাময়িকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
১৩৫ বার পড়া হয়েছে