কুড়িগ্রামে রোগীর হাতের ভেতরে কাচের টুকরা রেখে সেলাই, দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর হাতের ভেতরে কাচের টুকরা রেখে সেলাই করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এক মাসেরও বেশি সময় চরম যন্ত্রণা ভোগ করার পর অন্য এক চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সাহায্যে কাচ বের করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মজিদের পাড় এলাকায়। ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া পেশায় অত্যন্ত দরিদ্র এবং তিনি অন্যের জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি নিজ বাড়িতে দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যান তিনি। সে সময় ঘরের ভাঙা কাচের আঘাতে তাঁর বাম হাত গুরুতর জখম হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শয্যা খালি নেই জানিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মীরা শুধু প্রাথমিক ব্যান্ডেজ করে তাঁকে ছাড়পত্র প্রদান করেন। হাতের গভীরে আটকে থাকা কাচের ফালি সরাতে তারা কোনো প্রকার পরীক্ষা বা উদ্যোগ নেননি।
চিকিৎসা নেওয়ার পরও দীর্ঘ এক মাস ধরে হাত ব্যথায় ভুগেছিলেন ভুক্তভোগী। কোনো উন্নতি না দেখে পরবর্তীতে অন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানো হলে বাম হাতের মাংসপেশিতে দুটি কাচের টুকরা স্পষ্ট ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় যুবনেতা জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম বলেন, অসহায় এই রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। শুরুতেই সঠিক পরীক্ষা করানো হলে রোগীকে এই দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হতো না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে এবং তিনি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে