সর্বশেষ

জাতীয়

জাতীয় নিরাপত্তায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ আনসার-ভিডিপির

এম হাফিজ
এম হাফিজ

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা আনসার উচ্চতর প্রশিক্ষণ-১-এর সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের জাতীয় নিরাপত্তা, গণপ্রতিরক্ষা, আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট এবং অন্য প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল সনদপত্র ও আনসার ব্যাংকের শেয়ার সনদ দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবা ও আত্মত্যাগের চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্ষম জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাহিনীর কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় নেওয়া এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, মৎস্যজীবী ও মাছ ধরার নৌযানের সুরক্ষা এবং উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া দুর্যোগকালীন ও বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কারিগরি ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডের সহযোগিতায় জাপান ও ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে মহাপরিচালক জানান, সদস্যদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ সনদ, ডিজিটাল মনিটরিং, মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল মুখাবয়ব শনাক্তকরণে উপস্থিতি ব্যবস্থা এবং সিআরএম চালু করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ কর্মসূচি, সামাজিক সচেতনতা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আমন্ত্রিত অতিথি এবং বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০