ঢাকায় ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার, নীতিনির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামিটের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।
মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ, ব্যবসা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’—এই তিনের সমন্বয়ই সামিটের মূল দর্শন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনটি অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে এআইয়ের বিভিন্ন দিক
৫ নভেম্বর দিনব্যাপী সামিটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
প্রথম অধিবেশন দুপুর ১২টায় শুরু হবে। এতে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতিমালা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা।
একই সময়ে ‘হল অব ফেম’-এ অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
বেলা ৩টায় শুরু হবে তৃতীয় অধিবেশন। এতে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে এআই এজেন্টদের ভূমিকা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
থাকছে ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল
সামিটে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে।
এ ছাড়া ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এআইভিত্তিক প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ স্টল থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান সামিটে অংশ নেবে।
অংশ নেবেন ছয় হাজার দর্শনার্থী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী এবং দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি থাকবেন।
দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক সম্মেলনে অংশ নেবেন।
এই যৌথ উদ্যোগ দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
গবেষণাকে বাজারমুখী করার ওপর গুরুত্ব
সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষার প্রসার; গবেষণার ফলাফলকে তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাজার উপযোগী করা; গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও বাজারের সংযোগ স্থাপন এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও নীল অর্থনীতি নিয়ে পৃথকভাবে কাজ করা।
দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী স্নাতক তৈরি হওয়ায় তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিজ্ঞান সচিব। নতুন ওষুধ এবং জীবনযাপনভিত্তিক পণ্য উদ্ভাবনের লক্ষ্যে জীবপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. তাসকীন আহমেদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সহযোগিতায় এ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে বলে জানান। সামিটের খবর দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৩৪ বার পড়া হয়েছে