প্যারিস নয়, দার্জিলিংয়ে গৌরীর সঙ্গে হানিমুন করেছিলেন শাহরুখ
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খান ও গৌরী খানের প্রেমের গল্প যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের শুরুটা ছিল আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। ১৯৯১ সালে বিয়ের পর স্ত্রী গৌরীকে প্যারিসে হানিমুনে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শাহরুখ। কিন্তু তখন তাঁর হাতে ছিল না বিমানের টিকিট কেনার মতো অর্থ। শেষ পর্যন্ত কাজের সূত্রে দার্জিলিংয়ে গিয়ে নববধূকে নিয়ে কাটিয়েছিলেন বিশেষ কিছু মুহূর্ত।
সময়টা ১৯৯১ সাল। অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তখন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শাহরুখ খান। টেলিভিশন থেকে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করলেও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত হতে তখনো অনেক পথ বাকি। এমন সময় বিয়ে করেন গৌরী খানকে। নববধূকে প্যারিসে হানিমুনে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না।
এর মধ্যেই সুযোগ আসে ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমায় অভিনয়ের। ছবির একটি গানের শুটিংয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয় দার্জিলিংকে। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে গৌরীকে সঙ্গে নিয়েই পাহাড়ে পাড়ি দেন শাহরুখ।
সেখানে কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি পরিবেশ দেখিয়ে স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘এটাই আমাদের প্যারিস।’ অর্থের অভাবে ইউরোপের স্বপ্ন পূরণ না হলেও দার্জিলিংয়ের সৌন্দর্যের মধ্যেই খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁদের মধুচন্দ্রিমার আনন্দ। সেই স্মৃতি আজও তাঁদের প্রেমের গল্পের বিশেষ একটি অধ্যায় হয়ে আছে।
শাহরুখ-গৌরীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক হোটেল
দার্জিলিংয়ের ঐতিহাসিক হোটেল ‘দ্য এলগিন’ ঘিরেও রয়েছে শাহরুখ ও গৌরীর সেই সময়ের স্মৃতি। পর্যটকদের ভিড় থেকে দূরে নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত হোটেলটি শহরের টয় ট্রেন স্টেশন থেকে মাত্র চার মিনিটের দূরত্বে। এখানে রয়েছে ২৫টি ডিলাক্স রুম ও স্যুট।
হোটেলটির অতিথিদের জন্য রয়েছে তিনটি বিশেষ রেস্তোরাঁ। লাইভ পিয়ানো সংগীতের আয়োজন থাকে ‘অর্কিড ডাইনিং রুমে’। পাহাড়ি চা ও কুকিজের জন্য পরিচিত ‘টি লাউঞ্জ অ্যান্ড টিম্বার বার’। আর খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে ‘গার্ডেন গাজেবো’তে।
ডিলাক্স রুম, অ্যাটিক ও স্যুটসহ বিভিন্ন ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে হোটেলটিতে। পর্যটন মৌসুমে এক রাতের ভাড়া শুরু হয় ১২ হাজার টাকা থেকে। পুরোনো দিনের ঐতিহ্য ও পাহাড়ি পরিবেশের কারণে এখনো পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এই হোটেল।
রাজকীয় ইতিহাস ও তারকাদের আতিথেয়তা
‘দ্য এলগিন’ হোটেলের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৮৮৭ সালে এই স্থানে কোচবিহারের মহারাজার প্রাসাদ ছিল। সেখানে রাজকীয় অতিথিদের নিয়ে আয়োজন করা হতো নানা অনুষ্ঠান ও পার্টি। ব্রিটিশ আমলের পর ১৯৬৯ সালে হোটেলটি কিনে নেন হোটেল ব্যবসায়ী কেসি ওবেরয়। বর্তমানে এর মালিক বিআর ওবেরয়, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ডায়মন্ড ওবেরয়’ নামে পরিচিত।
শাহরুখ খান ও গৌরী খান ছাড়াও এই ঐতিহাসিক হোটেলে আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন ফরাসি লেখক ডমিনিক লাপিয়ের, সাংবাদিক মার্ক টালি এবং মডেল ও অভিনেতা মিলিন্দ সোমনের মতো পরিচিত ব্যক্তিরা।
দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা আর স্মৃতিবিজড়িত পরিবেশের কারণে ‘দ্য এলগিন’ এখনো ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে