মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এ উপলক্ষে বন্দরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি মোংলা বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বন্দর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে সম্পন্ন হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবকাঠামো পরিদর্শন করবেন। এ সময় বন্দরের উন্নয়ন ও কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে স্থানীয় এবং দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে নেওয়া এই প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি। এসব জেটিতে সরাসরি আন্তর্জাতিক বড় জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধা থাকবে।
এ ছাড়া হাজার হাজার কন্টেইনার সংরক্ষণের উপযোগী আধুনিক ও সম্প্রসারিত ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। দ্রুত কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য সংগ্রহ করা হবে অত্যাধুনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ক্রেনসহ প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর এবং এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বন্দরের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় চার লাখ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্দরের কন্টেইনার ও কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরে জাহাজের জট কমবে। ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর ফলে মোংলা বন্দর আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবন ও মোংলা অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বন্দর গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে না, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব বন্দরে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে।
এদিকে, প্রকল্পটি ঘিরে আশাবাদী বন্দর ব্যবহারকারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মোংলা বন্দরের প্রতি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেড়েছে। নতুন দুটি কন্টেইনার জেটি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দর আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের সূচনা মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে