সর্বশেষ

সারাদেশ

অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হৃদয়নকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার হয়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওরের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হৃদয়ন আনসারী (২৫)। অপহরণকারীরা তাঁকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নবীনগরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বাসায় নিয়ে যান।

হৃদয়ন আনসারী মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় বসবাস করেন। বিবিএ পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি।

পরিবার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন হৃদয়ন। পরে আব্দুল্লাহপুর থেকে মগবাজারগামী প্রভাতী বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন তিনি।

বাসটি উত্তরা আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি হৃদয়নের পাশের আসনে বসেন। এরপরই হৃদয়ন চেতনা ও স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হৃদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী জানান, অপহরণকারীরা তাঁর ভাইকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল। সেখানে সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো।

শাহরিয়ার আনসারী বলেন, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে অপহরণকারীরা তাঁর ভাইকে চোখ বাঁধা অবস্থায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে একটি ট্রাকে করে হৃদয়ন নবীনগরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে অপর এক ব্যক্তির মুঠোফোন ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার বাসায় নিয়ে যান।

দীর্ঘদিন বন্দি থাকায় হৃদয়ন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর শরীরে জ্বর ও ব্যথা রয়েছে। পাশাপাশি কথা বলতেও কিছুটা অস্পষ্টতা দেখা যাচ্ছে। তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

হৃদয়নের বড় ভাই জানান, অপহরণের পরদিন ২৫ অক্টোবর ভোরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে হৃদয়নকে জীবিত ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ ও নগদ নম্বরে কয়েক দফায় ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও হৃদয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এ ছাড়া চক্রটি হৃদয়নের মুঠোফোন, ই-মেইল, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বড় ভাই।

এদিকে হৃদয়ন আনসারীকে উদ্ধারের দাবিতে গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি অংশ নেন। কর্মসূচিতে হৃদয়নকে দ্রুত উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

১৪৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০