সর্বশেষ

সারাদেশ

লিখিত আদেশ ছাড়াই এলজিইডিতে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ, নিয়মিত স্বাক্ষর

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মোছা. রওজা বেগমের কর্মস্থল ও হাজিরা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত বদলি, প্রেষণ বা দায়িত্ব পালনের আদেশ ছাড়াই ২০২৬ সালের মার্চ থেকে তিনি জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে কাজ করছেন। অথচ সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় তাঁর নিয়মিত স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারী। বিষয়টি নিয়ে দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাসের মৌখিক নির্দেশে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন রওজা বেগম। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ জারি করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, রওজা বেগম জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের জন্য নিয়মিত তাঁর কাছে খাতা নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে হাজিরা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে বলে জানানো হয়।

এদিকে, সদর উপজেলা কার্যালয়ে হিসাবরক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাঁদের ভাষ্য, বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল-ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে হিসাবসংক্রান্ত স্বাক্ষর ও কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এতে দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

অনুসন্ধান সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে নিয়মিত হিসাবরক্ষক মোর্শেদ আলী দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরও সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে আরেকজন হিসাবরক্ষককে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই কার্যালয়ে একাধিক হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব বণ্টন এবং এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক আদেশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্থল পরিবর্তন, সাময়িক দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রেষণে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিবিধান ও দাপ্তরিক আদেশ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিখিত আদেশ ছাড়া অন্য কার্যালয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন এবং মূল কর্মস্থলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রশাসনিক বৈধতা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে মোছা. রওজা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাস স্যারের মৌখিক আদেশে চলতি বছরের মার্চ থেকে এলজিইডির জেলা কার্যালয়ে কর্মরত আছি।’

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সদর উপজেলায় যাওয়া হয় না। সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন পরপর গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসি।’

এ বিষয়ে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে, তিনি প্রেষণে আছেন। আমি বাইরে আছি। অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাব।’

এ ঘটনায় কর্মস্থলসংক্রান্ত আদেশ, হাজিরা খাতা ও দায়িত্ব বণ্টনের নথি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ে হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব বণ্টন এবং কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০