শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে পান করতে পারেন ৭ প্রাকৃতিক পানীয়
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করতে অনেকেরই আলস্য লাগে। শরীরকে সক্রিয় করতে কেউ কেউ ব্যায়ামের আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা প্রি-ওয়ার্কআউট সাপ্লিমেন্ট পান করেন। তবে শরীরকে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত করতে সব সময় এসব সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। ঘরে থাকা কলা, দুধ, ডাবের পানি, ওটস কিংবা বিটরুট দিয়েও তৈরি করা যায় পুষ্টিকর পানীয়। এসব পানীয় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে সহায়তা করতে পারে। শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে পান করতে পারেন এমন সাতটি প্রাকৃতিক পানীয়ের কথা জেনে নেওয়া যাক।
১. লেবু মেশানো কুসুম গরম পানি
শীতের সকালে ঠান্ডা পানি পান করতে অসুবিধা হলে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক। লেবু পানিতে স্বাদ যোগ করায় সহজে পানি পান করা যায়। ব্যায়ামের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে এই পানীয় পান করতে পারেন। তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ শক্তি জোগায় না।
২. কলার স্মুদি
কলায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও পটাশিয়াম, যা ব্যায়ামের সময় শরীরে শক্তি সরবরাহে সহায়তা করে। একটি পাকা কলার সঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার দুধ মিশিয়ে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হবে কলার স্মুদি। প্রয়োজন হলে সামান্য পানি যোগ করা যায়। ব্যায়ামের ৬০ থেকে ৯০ মিনিট আগে পান করা ভালো। দুধে হজমের সমস্যা থাকলে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ডাবের পানি
ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট থাকে। এটি শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। ব্যায়ামের আগে এক গ্লাস সাধারণ ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। তবে এক ঘণ্টার কম সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষের জন্য শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট। ডাবের পানিকে সব ধরনের ইলেকট্রোলাইটের পূর্ণ বিকল্প মনে করা ঠিক নয়।
৪. ওটস ও দুধের স্মুদি
ব্যায়ামের আগে কিছুটা পেট ভরে খেতে চাইলে ওটস ও দুধের স্মুদি হতে পারে ভালো পছন্দ। ওটসে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার, আর দুধ সরবরাহ করে প্রোটিন। ২০ থেকে ৩০ গ্রাম ওটসের সঙ্গে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার দুধ ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় এই পানীয়। স্বাদের জন্য অর্ধেক কলা যোগ করতে পারেন। ব্যায়ামের ৬০ থেকে ১২০ মিনিট আগে পান করা ভালো। তবে ফাইবার বেশি থাকায় ব্যায়ামের ঠিক আগে বেশি পরিমাণে পান করলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
৫. বিটরুটের জুস
বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এটি রক্তনালির কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুটের নাইট্রেট নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যায়ামের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। একটি ছোট বিটরুটের সঙ্গে পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করা যায়। ব্যায়ামের দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে পান করা ভালো। তবে এর উপকারিতা সবার ক্ষেত্রে সমান নাও হতে পারে।
৬. পানিতে মেশানো কমলার রস
কমলার রসে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ভিটামিন সি। ব্যায়ামের আগে শরীরে কিছুটা শক্তি সরবরাহে এটি সহায়ক হতে পারে। আধা গ্লাস ১০০ শতাংশ কমলার রসের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে পান করতে পারেন। ব্যায়ামের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে এটি পান করা যায়। তবে ফলের রসে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পান করার পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৭. হালকা গরম দুধ ও কলা
শীতের সকালে গরম পানীয় পছন্দ হলে এক কাপ হালকা গরম দুধের সঙ্গে অর্ধেক বা একটি কলা খেতে পারেন। দুধ থেকে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কলা শরীরে বাড়তি কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। ব্যায়ামের ৪৫ থেকে ৯০ মিনিট আগে এটি খাওয়া ভালো। তবে দুধ পান করলে পেটে ভারী লাগার সমস্যা হলে বিকল্প হালকা খাবার বেছে নিতে পারেন।
ব্যায়ামের আগে কোন পানীয় উপযুক্ত?
ব্যায়ামের আগে কী পান করবেন, তা নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন, সময় ও শরীরের প্রয়োজনের ওপর।
স্বল্প সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের আগে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট হতে পারে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কলা বা কলার স্মুদি খেতে পারেন।
দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য ব্যায়ামের আগে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ পানীয় উপকারী হতে পারে।
শীতের সকালে গরম পানীয় চাইলে কুসুম গরম পানি কিংবা হালকা গরম দুধ বেছে নিতে পারেন।
যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
প্রাকৃতিক পানীয় পান করলেই তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যায়ামের আগে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং শরীরে পানির চাহিদা পূরণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক ঘণ্টার কম সময়ের সাধারণ ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষের জন্য সাধারণ পানিই যথেষ্ট।
তাই নিজের শারীরিক চাহিদা, ব্যায়ামের ধরন ও সহনশীলতা বুঝে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়া উচিত।
১৪২ বার পড়া হয়েছে