সর্বশেষ

লাইফস্টাইল

ডায়াবেটিসে কোন আটার রুটি খাওয়া ভালো?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবার নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হয়। তবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা থেকে রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যবের আটা, লাল আটা, জোয়ার, বাজরা, রাগি ও ছোলার আটার মতো আঁশসমৃদ্ধ বিকল্প বেছে নেওয়া এবং পরিমাণ মেনে খাওয়ার মাধ্যমে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সম্ভব।

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকেই রুটি খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। বিশেষ করে উপমহাদেশের মানুষের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় রুটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই রুটি খাওয়া বন্ধ করতে হবে, এমন নয়। বরং কোন ধরনের আটা ব্যবহার করা হচ্ছে, কতটুকু রুটি খাওয়া হচ্ছে এবং সঙ্গে কী ধরনের খাবার থাকছে—এসব বিষয় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জং’-এ প্রকাশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কয়েক ধরনের আটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মতে, আঁশসমৃদ্ধ ও কম প্রক্রিয়াজাত আটা খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।

যবের আটা

যবে রয়েছে বিটা-গ্লুকান নামের একধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এটি হজমের গতি ধীর করতে এবং গ্লুকোজ শোষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে যবের আটা উপকারী হতে পারে।

লাল আটা

গমের তুষ বা বাইরের আবরণ অক্ষত রেখে তৈরি লাল আটায় সাধারণত পরিশোধিত সাদা আটার তুলনায় বেশি খাদ্যআঁশ থাকে। এই আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লাল আটা বিবেচনা করা যেতে পারে।

জোয়ার, বাজরা, রাগি ও ছোলার আটা

যব ও লাল আটার পাশাপাশি জোয়ার, বাজরা, রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট এবং ছোলার আটাও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব আটার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যআঁশের পরিমাণ এক রকম নয়। তাই ব্যক্তির পুষ্টির চাহিদা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী এগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে।

তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট আটার রুটি খেলেই রক্তে শর্করা সব সময় স্বাভাবিক থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আটার ধরন ছাড়াও খাবারের মোট কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ, রান্নার পদ্ধতি, শারীরিক পরিশ্রম ও ওষুধের মতো বিষয় রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে।

রুটির পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু আটার ধরন নয়, রুটির পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। আঁশসমৃদ্ধ আটার রুটিতেও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর আটা ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত রুটি খাওয়া এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে রুটি খাওয়ার পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। ডাল, ডিম, মাছ কিংবা অন্যান্য উপযোগী প্রোটিনের উৎসের সঙ্গে শাকসবজি খেলে খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই পরিমাণ রুটি বা একই ধরনের আটা উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত রক্তে শর্করার মাত্রা, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম ও চিকিৎসার ধরন বিবেচনায় পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করা ভালো।

১৩৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
লাইফস্টাইল নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০