ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা চলছে, অভিযোগ ছেলের
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর ছেলে সুলাইমান খান। তাঁর অভিযোগ, কারাগারে বাবাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন সুলাইমান। তবে ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের নিরাপত্তা এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ছেলে সুলাইমান খান অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তাঁর বাবার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সুলাইমানের দাবি, গত আগস্টের পর থেকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা ইমরান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আগস্টে তাঁর বাবা জানিয়েছিলেন, কারাগারে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মতো পরিণতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন ইমরান।
সুলাইমান আরও লেখেন, এরপর থেকে কেউ তাঁর বাবাকে দেখেননি কিংবা তাঁর বক্তব্য শুনতে পারেননি। তাঁর অভিযোগ, ইমরান খান এখনো পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের একজন হওয়ায় ক্ষমতাসীনদের কাছে তিনি ভীতির কারণ। তাঁর বাবার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় কার ওপর বর্তাবে, তা যেন স্পষ্ট থাকে—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি।
মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ২০১৯ সালে আদালতে শুনানি চলাকালে মারা যান। এর আগে ইমরান খানও নিজের জীবন নিয়ে একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
ইমরান খানের চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সুলাইমানের অভিযোগ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করছেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁকে একাকী বন্দি রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। আগস্টে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া লিখিত বক্তব্যে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইমরান খান কোনো নির্বাহী আদেশে আটক নন। বরং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত একজন বন্দি হিসেবে কারাভোগ করছেন।
৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতি ও ঘুষসংক্রান্ত মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও চাপের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সুলাইমান ও তাঁর ভাই কাসিম খানকে বাবার মুক্তির দাবিতে প্রচার চালানোর জন্য পাকিস্তান সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। পাঞ্জাব প্রদেশের জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। সোমবার প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা তাঁদের আটকাদেশ আরও ৩০ দিন বাড়ানোর কথা জানান।
এদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আয়োজিত একটি সমাবেশে হাজারো সমর্থক অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের দিকে দীর্ঘ পদযাত্রা করেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে ইমরানের মুক্তি, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগ বাড়ানো এবং পছন্দের চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেন।
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী ওই প্রদেশে ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে পিটিআই এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘জরুরি অবস্থার আড়ালে অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলন দুর্বল করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে চলমান বিরোধ পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাঁর জীবননাশের আশঙ্কা এবং সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে