সর্বশেষ

বিনোদন

গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পুলিশ, চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গায়ক আবু জাহিদ অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

গায়ক আবু জাহিদ অন্তুর বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের মামলায় তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এ কারণে অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে গিটার শেখার সূত্রে আবু জাহিদ অন্তু ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী এবং মডেল জান্নাতুন তাজরি অরার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি হলে দুজনের বিচ্ছেদ ঘটে।

এরপর গত ৩১ মে গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন অরা। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২ মে পণ্যের ফটোশুটের কথা বলে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে তাঁকে যৌন নিপীড়ন ও মারধর করেন অন্তু।

তবে মামলার তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম রাশিদুর রহমানের তদন্তে জানা যায়, অরা অন্তুকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে অন্তু তাতে সম্মতি না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে অন্তুর গুলশানের বাসার স্টুডিওতে পণ্যের ফটোশুটের প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যেতে রাজি হন অরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২ মে সকালে অন্তুর বাসায় গিয়ে তাঁকে পাননি অরা। পরে বিকেলে তাঁদের দেখা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা বাসার অফিসকক্ষে বসে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্তু নিজের মুঠোফোন চার্জে রেখে বাসার নিচে যান। এ সময় তাঁর ফোনে একটি কল এলে অরা সেটি রিসিভ করেন এবং নিজেকে অন্তুর স্ত্রী পরিচয় দেন।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে অন্তু উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এর কারণ জানতে চান। পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অরা অপমানিত বোধ করেন। এরপর ক্ষোভ থেকে তিনি অন্তুর বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ বাদী ও বিবাদীর কল রেকর্ড, ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে। তবে এসব তথ্য-প্রমাণে অভিযোগের পক্ষে কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া অরার শারীরিক পরীক্ষা করা হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। চিকিৎসকের পরীক্ষায় তাঁর শরীরে আঘাত বা নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৩১ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে আবু জাহিদ অন্তুকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশের পাশাপাশি বাদী জান্নাতুন তাজরি অরার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নিজের সামাজিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গায়ক অন্তু। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও যে হয়রানি ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তার দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
বিনোদন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০