সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, এগিয়ে নেতানিয়াহু

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের মধ্যে সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটেনি। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে না পারায় কোনো পক্ষের পক্ষেই সরকার গঠন সহজ হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও ক্ষমতায় কে থাকবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচন হতে পারে। সে পর্যন্ত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ধরনের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই।

সরকার গঠনের নিয়ম কী?

ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেওয়া হয়।

এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে না পারলে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। কোনো দল বা জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে।

আসন বণ্টনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছে। এতে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৮টি।

আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন, যা রেকর্ডসংখ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এসব দলের সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সীমিত। তবে অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন।

ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহুবিরোধীদের শক্ত অবস্থানের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব ফলাফলে তা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা কতটা?

সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলতে থাকলে এবং নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিলে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ধরনের সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর প্রত্যাশা থাকে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে এ ধরনের সরকারের কাছ থেকে সংযম প্রত্যাশা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর আসনসংখ্যার চূড়ান্ত হিসাব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপরই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচনের পরও দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০