ইসরায়েলে নির্বাচন
মোড় ঘুড়ে যাচ্ছে, প্রয়োজন ৬১ আসন, এখন পর্যন্ত ফলাফল কি
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ও গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয় চলছে। বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে সামান্য এগিয়ে নেতানিয়াহু- এমনটাই বলছে দেশটির গণমাধ্যম।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পাবে বলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
দেশটির দুটি প্রধান গণমাধ্যমের সর্বশেষ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী জোট উভয়েই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় একটি গণমাধ্যমের জরিপে নেতানিয়াহুর জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১টি আসন প্রয়োজন। বুথফেরত জরিপে কোনো জোটই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত কীভাবে সরকার গঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
নেতানিয়াহু অবশ্য নির্বাচনে নিজেদের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, জায়নবাদী জনগণের মধ্যে ডানপন্থী দলগুলো একটি ‘নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ অর্জন করেছে। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী’ জাতীয় সরকার গঠন করতে চান।
লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে কোনো পক্ষ ইসরায়েল পরিচালনা করতে পারে না। তবে বুথফেরত জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়ায় তাঁর জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও এখনো নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, মধ্যপন্থী বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ইসরায়েলের জনগণ নেতানিয়াহুর মেয়াদের অবসানের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে বিরোধী জোটের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে।
এদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় এটি তাদের জন্য ভালো ফল হতে পারে। তবে প্রধান কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোকে সঙ্গে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। গত প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।
বুথফেরত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় জোট গঠন ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার। তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই সরকার গঠনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: আল জাজিরা এবং বিবিসি সর্বশেষ আপডেট।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে