জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার এবং ২৭ বছরের তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের বার্ষিক জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। অন্যদিকে জাপানি পণ্যও বাংলাদেশে বিশেষ সুবিধা পাবে।
চুক্তিটি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান উদ্বেগ—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং সহজ শুল্ক ও করপ্রক্রিয়া—সমাধানে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে জাপানি মোটরগাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় খুচরা বিক্রেতারা কারখানা স্থাপন শুরু করেছে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি খাত: দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকসনির্ভর ‘বাংলাদেশ-জাপান টেকনোলজি পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা: দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে সংযুক্ত করতে দেশব্যাপী উড়ালসড়ক এবং উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের মহাপরিকল্পনা তৈরিতে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতে ও শেষে জাপানি ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে