ফরিদপুরে অবসরে যাওয়া দুই শিক্ষককে সংবর্ধনা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবিরুল আলম ও সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। সম্প্রতি অবসরে যাওয়া এই দুই শিক্ষককে মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া চরাঞ্চলে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় গোলাপবাগের প্রতিষ্ঠাতা মো. আখতারুজ্জামান খাঁনকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
ফরিদপুর সদর উপজেলার চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি ওঠে আশির দশকে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সন্তান মো. আখতারুজ্জামান খাঁনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় গোলাপবাগ। পরে সেখানে গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক মহিলা বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ ও চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মো. কবিরুল আলম। একই সময়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মো. নুরুল ইসলাম। তাঁরা দুজনই তিন যুগের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করে সম্প্রতি অবসরে যান। তাঁদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
এ ছাড়া দুর্গম ও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলে গোলাপবাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধান ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠাতা মো. আখতারুজ্জামান খাঁনকে শিক্ষানুরাগী হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আলী রেজা খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, আখতারুজ্জামান খাঁন ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে গোলাপবাগ প্রতিষ্ঠিত না হলে এ চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে আরও পিছিয়ে থাকত। গোলাপবাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এ অঞ্চলে শিক্ষা ও সভ্যতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় গোলাপবাগ আজ একটি দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। এ সময় তাঁরা অবসর নেওয়া দুই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সদ্য অবসর নেওয়া প্রধান শিক্ষক কবিরুল আলম বলেন, তাঁকে যেভাবে সংবর্ধিত করা হয়েছে, তা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন।
সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, গোলাপবাগের মানুষের ভালোবাসার ঋণ কখনো শোধ করার নয়। তিনি সবার ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চান এবং এলাকার সমৃদ্ধি কামনা করেন।
১০৭ বার পড়া হয়েছে