চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় পৃথক দুটি মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১৭ বছর আগে দায়ের করা ঝন্টু হত্যা মামলায় দুজনকে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শফিউল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) পৃথক আদালত এসব রায় ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিচারাধীন ঝন্টু হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই দিন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আরও এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড এবং মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম ঝন্টু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। একই দিন দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার রায় দেন।
হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই গ্রামের মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় ইসমাইল হোসেনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
এজাহারে বলা হয়, বাদী জাহা বক্স মণ্ডল ও অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মুঠোফোনে ইসমাইলের কল পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন গ্রামের একটি ধানখেতে তাঁর লাশ পাওয়ার খবর আসে। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
মামলার তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে। তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিচারিক কার্যক্রম চলার পর ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের বিষয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।
অন্যদিকে, আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শফিউল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শফিউল্লাহ আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় বাড়ির একটি শোকেস থেকে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ৪৪ মিলিলিটার ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রমে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নেও এ ধরনের রায় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
১১৩ বার পড়া হয়েছে