কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযানে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কম্বোডিয়া থেকে ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশসহ ৮৭টি দেশের মোট ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে বাধ্য হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো পৃথক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কম্বোডিয়ায় পরিচালিত অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে বহিষ্কার করেছে কম্বোডিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবালের প্রতিবেদনের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।
কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মঙ্গলবার বিটিভি নিউজ গ্লোবাল জানায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটিতে ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কার করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন। এ বৃদ্ধির হার ৪০০ শতাংশের বেশি।
বহিষ্কৃত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সময়ে আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, মিয়ানমারের প্রায় দুই হাজার এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিকও বহিষ্কৃত হয়েছেন।
কম্বোডিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে সরাসরি অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন মানবপাচারের শিকার হয়েছেন কিংবা জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তার পৃথক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের প্রকৃত অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির বক্তব্য, মানবপাচারের শিকার হয়ে যাঁরা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ যাচাই ছাড়া অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তাঁদের ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থেকে বহিষ্কৃত কতজন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন এবং কতজন এখনো সেখানে আটকে আছেন, তার সঠিক তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরও বলেছে, কম্বোডিয়ায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশে ফেরা ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এ ছাড়া বহিষ্কৃত বাংলাদেশিরা যাতে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অন্য কোনো দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে আবারও মানবপাচারের শিকার না হন, সে জন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
১০৮ বার পড়া হয়েছে