সর্বশেষ

প্রবাস

মক্কায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন বগুড়ার, অন্যজন কুমিল্লার

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি। তাঁদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়, অন্যজন কুমিল্লার বাসিন্দা। তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আকাশপথে যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ট্রলি হস্তান্তরের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড গত বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আজেল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার।

সৌদি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাঁদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলাটি আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠিতে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাঁদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও রায় বহাল রাখেন।

তবে ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তাঁরা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে মিশনকে আগে থেকে কিছু না জানানোর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাঁদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

১৮২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
প্রবাস নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০