৩৬ দিন পর চুয়েটে ক্লাস শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ৩৬ দিন আন্দোলন চলার পর আবার ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ক্লাস হয়েছে শুধু নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম। একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে ক্লাস শুরু হয়। বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকে কমসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েই ক্লাস হয়েছে। রুটিন অনুসারে আজ ল্যাব হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।’
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগে বৃহস্পতিবার থেকে এবং বাকি বিভাগগুলোতে রোববার থেকে ক্লাস শুরু হবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিটি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। বেলা আড়াইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত কর্মকর্তা এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরলেও নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রতি পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথ সভা শেষে এক যুক্ত বিবৃতিতে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর আগে রোববার সাধারণ সভা করে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত না করার লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের কথা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও আন্দোলন জোরদার হবে। তিনি ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে পুনরায় শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ কর্মদিবস ক্লাস হয়নি। এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগের পূর্বনির্ধারিত ২৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
গত ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চুয়েটে দুর্গাপূজার ছুটি ছিল। রোববার থেকে কর্মদিবস শুরু হলেও চলমান আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অচল ছিল।
নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে এবং আগের উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলো।
আন্দোলনের মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
গত ১২ অক্টোবর সকালে প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ে যান তিনি। সেদিন দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দিলে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য।
গত ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সভায় ১৫ জন সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।
সভায় নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্তের একটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে একটি ‘নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠানো।
এরপর ১৮ অক্টোবর চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে ইউজিসি। তবে ওই কমিটিতে চুয়েটের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংকটের মধ্যে বুধবার সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থা পুরোপুরি কাটেনি। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
১২৬ বার পড়া হয়েছে