সাজেক পর্যটন সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অবরোধ চলাকালে সাজেকে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও অবরোধ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছিল সংগঠন দুটি। ওই দিন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মো. সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরে শর্তসাপেক্ষে অবরোধ স্থগিত করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষিরা নিজেদের জমিতে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে যেতে পারছেন না। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠন দুটির নেতারা। তাঁদের দাবি, সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে তাঁদের কথিত অবস্থান থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এদিকে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি। তবে অবরোধ চলাকালে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের সুযোগ রাখা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।
১৭৫ বার পড়া হয়েছে