'তোর তো সামনে মহাবিপদ, আমি জিনের বাদশাহ'
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কখনো ‘জিনের বাদশা’, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ, আবার কখনো পরিচিত ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বর নকল করে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ।
কখনো ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে, কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ সেজে, আবার কখনো কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি। মুঠোফোনে সামনে বিপদের ভয় দেখিয়েও, বিভিন্নভাবে পরিবার বা সম্পদের ওপর বালাই মছিবতের ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করে এরা। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
বুধবার পিবিআইয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ রশিদুল ইসলামের পরিচিত বিজয় বাবুর মুঠোফোন নম্বর নকল করে তাঁকে ফোন করা হয়। এ সময় ৩৩ টন চাল কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জরুরি প্রয়োজনে টাকার কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ে চাল না পেয়ে রশিদুল ইসলাম প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রথমে স্থানীয় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। তবে দীর্ঘ আট মাসেও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর প্রতারণার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। এরপর ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যেভাবে প্রতারণা করত চক্রটি
পিবিআই সূত্র জানায়, চক্রটির সদস্যরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মুঠোফোনের সিম নিবন্ধন করত। প্রতারণার কাজে ব্যবহারের পর সেসব সিম ফেলে দিত, যাতে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়।
চক্রটির প্রতারণার অন্যতম কৌশল ছিল গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে ফোন করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো। এ ছাড়া তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে গোপন রোগ নিরাময়ের প্রলোভন দেখিয়েও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল। তাদের মধ্যে কেউ ফোন করে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সরবরাহ করত। অন্য সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া টাকা সংগ্রহ করত।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব, সন্দেহজনক ফোনকল কিংবা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে