ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। জনসমাগম ও মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এসব ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে অনুমতি ছাড়া মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তরুণদের চলাচল ও জনসমাগম সীমিত করতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে বিশেষ কারফিউ জারি করা হয়েছে। মার্সেই, বোর্দো ও লিওঁসহ বিভিন্ন শহর এবং উত্তরের লিলসহ আরও কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার এসব নির্দেশ জারি করেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তাঁর অভিযোগ, ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ‘বিশৃঙ্খলা তৈরি’ করতে ‘অতি-বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো’ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সোমবার জরুরি বৈঠক শেষে লেকর্নু বলেন, ‘শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেন, কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল।
গত মাসে রাজধানীর জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এ আন্দোলন পরে দ্রুত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানোর দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের আর ছয় মাস বাকি থাকতে ফ্রান্সে এ ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংস ঘটনাগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে সাময়িক বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে কারফিউ জারি, মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, টেলিভিশনের খবর দেখে ফরাসিরা মনে করছেন, সারা দেশেই বিশৃঙ্খলা চলছে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন নয়। তাঁর ভাষ্য, মূলত শহরাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অস্থিরতা চলছে।
বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী সের্ঝ পাপাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অন্তত তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন লেকর্নু।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। মাখোঁর দপ্তর সোমবার এ তথ্য জানায়। এর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সড়কে ব্যারিকেড ও লুটপাট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আগাম পরিস্থিতি আঁচ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ছিল বলে উল্লেখ করেছেন মাখোঁ। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর পাশে দাঁড়িয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, লুটপাট ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্যের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে, আগামী বসন্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ‘উগ্র বামপন্থী আন্দোলন’ দেশজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন লেকর্নু। তিনি বলেন, এমন একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি ও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় করা হতে পারে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে