হুতি বিদ্রোহী ঠেকাতে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ আরব আমিরাতের
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতি ঠেকাতে আবারও সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী সরকারপন্থী কয়েকটি বাহিনীকে পুনরায় অর্থায়নের পরিকল্পনা করছে আমিরাত। বিনিময়ে এসব বাহিনীকে আকাশপথে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা রয়েছে সৌদি আরবের। ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে দুই উপসাগরীয় দেশের মতবিরোধের মধ্যে এ উদ্যোগকে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী সরকারপন্থী কয়েকটি বাহিনীকে আবার অর্থায়ন শুরু করতে পারে আমিরাত। বিনিময়ে সৌদি আরব এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। তবে দেশজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি এবং সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা দুই দেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’ অন্যতম। একসময় এ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন দিত আমিরাত। হুতিবিরোধী সামরিক জোটের কার্যকর বাহিনীগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এটি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আমিরাত। একই সময়ে জায়ান্ট ব্রিগেডসের অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দাবি তুলেছে। চলতি সপ্তাহে এ দাবি জানানো হলেও সৌদি আরব ও আমিরাতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি বাস্তবায়িত হলে ওই সময়কার সীমান্ত পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে চলে যান।
এরপর এসটিসির জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে হামলা চালায় সৌদি আরব। পরবর্তী সময়ে ইয়েমেন থেকে সব ধরনের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানিয়েছিল।
এসটিসি এখনো সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়াইয়ে পাঠাতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটে সম্মতি দিলে এ অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় তাদের অগ্রগতি সীমিত রয়েছে।
ইয়েমেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও হুতিরা তাইজ ও মারিব শহর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শহর দুটি সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।
হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে মিসরের সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তবে সিসি স্পষ্ট করেছেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই হবে তাদের লক্ষ্য।
সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছেও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে কিছু সহায়তা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকেরা সংকট মোকাবিলায় দেশটির আরও সক্রিয় ভূমিকা চান।
পাশাপাশি ওমান, কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সহযোগিতা আরও জোরদার করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে