সর্বশেষ

জাতীয়

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজের সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সবাইকে মিলে একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নগরীর আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা যাবে না। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

নগরীর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যখন যেখানে যান, সেখানে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা দেখার চেষ্টা করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করে বিষয়গুলো জানান। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একইভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিলে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর দেখে অনেকেরই মনে হয়, বাংলাদেশের শহরগুলোও যদি এমন হতো। কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা কিছুটা ভালো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও নতুন করে সড়ক বিভাজক তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

১৪৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০