ইশরাকের পদত্যাগে আইনমন্ত্রী ও এনসিপি নেতারা কি বলছেন
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া এবং পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপন্থী কাজ করলে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণা এবং অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের ভূমিকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী এবং এনসিপির নেতারা।
ঝিনাইদহে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পরিপন্থী কোনো কাজ হলে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে এনসিপির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন ইশরাকের ঘটনাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হতো না।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শুধু একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপরও বর্তায়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিতে গিয়ে ইশরাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
আখতার হোসেন বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুধু ইশরাকের পদত্যাগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। এ জন্য সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদক প্রবেশ ঠেকানোসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ইশরাকের পদত্যাগের পেছনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কোনো ভূমিকা আছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গত শনিবার ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে রোববার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইশরাকের প্রেস কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলেও পরে ইশরাক নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত না থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পদত্যাগপত্র চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহায়তায় পদত্যাগপত্রের খসড়াও তৈরি করা হয়েছিল।
ইশরাকের দাবি, অভিযানের সময় একদল ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তবে অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তাঁরা আগে থেকে এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না।
১৯৫ বার পড়া হয়েছে