সর্বশেষ

অপরাধ

রাজশাহীর পাকড়ী কলেজে চারজনের এমপিও নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ

শামীম বিন সাত্তার, ঢাকা
শামীম বিন সাত্তার, ঢাকা

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী কলেজে প্রায় ২২ বছর আগের নিয়োগ দেখিয়ে চারজন প্রদর্শককে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির যোগসাজশে নথি তৈরি করে তাঁদের এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ন কবীরের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী কলেজে (ইআইআইএন নম্বর: ১২৬৭৫৮) চারজন প্রদর্শককে এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২২ বছর আগের নিয়োগ দেখিয়ে তাঁদের এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষের যোগসাজশে নথি তৈরি করে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ন কবীর বিষয়টি জানার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চারজনের এমপিও অনুমোদন দেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রদর্শক জুবায়ের হোসেন, ভূগোলের প্রদর্শক মোজাহারুল ইসলাম, জীববিজ্ঞানের প্রদর্শক আবদুল্লাহ আল মাসউদ এবং প্রকৌশল অঙ্কনের প্রদর্শক আবুল কালাম আজাদ এমপিওভুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রথম মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল গাফফারের দাবি, চারজন প্রদর্শক ২২ বছর আগেই নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে এত দিন এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তাঁরা কলেজে আসতেন না। এখন এমপিওভুক্ত হওয়ার পর কলেজে আসতে শুরু করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যভান্ডারে কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিবছর জমা দেওয়া জনবল কাঠামোর তালিকায় ওই চারজনের নাম নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের আগের গভর্নিং বডির সময় নিয়োগ দেখিয়ে চারজনকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ আবদুল গাফফারের দাবি, চারজনই বাংলাদেশ নন-ক্যাডার শিক্ষা (বিএনসিই) নয়, বরং বিএনেি করে বলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। মূল বক্তব্যে ব্যবহৃত এই শিক্ষাগত যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত রূপটি অস্পষ্ট হওয়ায় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে ওঠা পাকড়ী কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এলাকার মানুষ চেনেন। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত ওই চারজনকে আগে কখনো কলেজে দেখেননি স্থানীয়রা।

কলেজের অধ্যক্ষের পুরোনো কক্ষে ঝোলানো একটি বোর্ডে শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম, পদবি ও মুঠোফোন নম্বর রয়েছে। সেখানে মোট ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম থাকলেও নতুন করে এমপিওভুক্ত হওয়া চার প্রদর্শকের নাম নেই। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, তাঁরা যদি ২০০৪ সালে নিয়োগ পেয়ে থাকেন, তাহলে ২০১৫ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তাঁদের নাম থাকার কথা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এমপিওভুক্তির আগে চারজনই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। জীববিজ্ঞানের প্রদর্শক আবদুল্লাহ আল মাসউদ ফারইস্ট ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে, পদার্থবিজ্ঞানের প্রদর্শক জুবায়ের হোসেন বাংলালিংকে কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে, প্রকৌশল অঙ্কনের প্রদর্শক আবুল কালাম আজাদ ব্র্যাকে এবং ভূগোলের প্রদর্শক মোজাহারুল ইসলাম বায়োফার্মায় ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করতেন। গত আগস্টে তাঁরা এসব চাকরি ছেড়ে কলেজে আসা শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমপিওভুক্তির আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে চারজনের আবেদন অনলাইনে পরিচালকের আইডিতে জমা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পরিচালক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আবেদনগুলো সহকারী পরিচালকের কাছে পাঠান। সহকারী পরিচালক সাদিকুল ইসলাম তাঁর মতামতে লিখেছিলেন, পদগুলো জনবল কাঠামোবহির্ভূত এবং এমপিও পাওয়ার যোগ্য নয়।

এরপরও পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ন কবীর তাঁদের এমপিও অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

১৪০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০