এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করেছে বিমান
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভরতার বাইরে গিয়ে প্রথমবারের মতো বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ।
বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, চারটি দীর্ঘপাল্লার ওয়াইড-বডি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি মাঝারি ও আঞ্চলিক রুটের ন্যারো-বডি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হবে ২০৩৩ সালে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার মোট আর্থিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে সক্রিয় উড়োজাহাজ রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িংয়ের এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছর বোয়িংয়ের কাছ থেকেও ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান।
এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়।
বিমান কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে। পুরোনো উড়োজাহাজগুলো ধাপে ধাপে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বিমানের বহর ৫০টি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। এ সময়ের পরিচালন সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে আরও ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বিমান। পাশাপাশি এয়ারবাসের নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এয়ারবাসের প্রতিনিধি জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান এভিয়েশন খাতের অংশীদার হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। নতুন মডেলের উড়োজাহাজগুলো বিমানের যাত্রীসেবা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এ চুক্তিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির কাতারে পৌঁছানো এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এ চুক্তির ফলে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি দেশে বিশ্বমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল বা এমআরও শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০৯ বার পড়া হয়েছে