মানিকগঞ্জে মা-ছেলে হত্যা: দেবর সোলায়মানের ১০ বছরের কারাদণ্ড
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বহুল আলোচিত মা ও ছেলে হত্যা মামলায় দেবর সোলায়মান হোসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ভাবি ও ভাতিজাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় প্রদান করেন। তবে এ রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে উভয় পক্ষই।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সোলাইমান হোসেন সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। নিহত পারভিন আক্তার সম্পর্কে তার ভাবি এবং অপর নিহত শিশু আব্দুল নূর তার ভাতিজা ছিল। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাটুরিয়া উপজেলার সাফুল্লী গ্রামে নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় পারভিন আক্তার ও তার শিশুপুত্র আব্দুল নূরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৯ জানুয়ারি নিহতের মা মজিরন বেগম বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম একই বছরের ১৪ মে সোলায়মান হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামি সোলায়মানের সাথে তার ভাবি পারভিন আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের অবনতি ঘটায় প্রথমে ভাবিকে এবং পরে ঘটনাটি দেখে ফেলায় নিষ্পাপ ভাতিজাকে হত্যা করে সোলায়মান। পরবর্তীতে আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই ডাবল মার্ডারের দায় স্বীকার করেন। যদিও রায় ঘোষণার পর আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দাবি করেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আ.ফ.ম নূরতাজ আলম বাহার জানান, মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিল বাদী পক্ষ। তাই এই লঘু সাজায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলামও রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামির খালাস চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
১৫০ বার পড়া হয়েছে