বগুড়ায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ২৪ জনের মাঝে ছাগল বিতরণ
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বগুড়ায় অসচ্ছল, অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ২৪ নারীর মাঝে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বগুড়া সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় প্রোগ্রাম ফর ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (পেসড) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপকারভোগী ২৪ নারীর হাতে ছাগল তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নারীদের হাতে ছাগল তুলে দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু আর্থিক সহায়তা দিলেই হবে না, তাঁদের আয় করার সুযোগও তৈরি করে দিতে হবে। ছাগল বিতরণের মতো কর্মসূচি দরিদ্র নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, একটি ছাগল থেকে প্রজননের মাধ্যমে কয়েকটি ছাগল তৈরি হলে তা ভবিষ্যতে একটি পরিবারের জন্য স্থায়ী সম্পদে পরিণত হতে পারে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
উপকারভোগীদের ছাগলগুলো যত্নসহকারে লালন-পালন করে পরিবারের আয় বাড়ানোর কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দরিদ্র মানুষের হাতে এমন সম্পদ তুলে দিতে হবে, যা থেকে তাঁরা নিয়মিত আয় করতে পারেন। ছাগল পালন গ্রামীণ নারীদের জন্য সহজ ও সম্ভাবনাময় আয়ের পথ।
তিনি বলেন, একটি ছাগল থেকে ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়িয়ে উপকারভোগীরা ভবিষ্যতে নিজেদের পরিবারের জন্য স্থায়ী সম্পদের ভিত্তি তৈরি করতে পারবেন। অসহায়, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, সমাজের অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। দরিদ্র নারীদের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে অনেক পরিবার ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জীবনমান পরিবর্তন করা সম্ভব। উপকারভোগীদের ছাগলগুলো যত্নসহকারে পালন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো তাঁদের পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে ওঠে।
শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান ছাগল পালনে সঠিক খাবার, পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেন। নিয়মিত টিকা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে ছাগল পালন করলে উপকারভোগীরা এর মাধ্যমে ভালো আয় করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আক্তার, এডাব বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, পেসডের নির্বাহী পরিচালক মোছা. রোমানা খাতুন (রুমা) এবং প্রকল্প কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম (নিরব)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, অসহায়, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র নারীদের ছাগল পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ছাগল পালন থেকে আয় করে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করতে পারবেন।
১২৬ বার পড়া হয়েছে