ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে তুলে দেওয়া হয় প্রাইভেট কারে: পুলিশ
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ প্রিজন ভ্যান থেকে পালাননি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে প্রাইভেট কারে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। এ ঘটনায় প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা এসআই প্রবীর কুমারের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে পরিকল্পিতভাবে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে আসামিদের নিয়ে ফেরার পথে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে ছিলেন এসআই প্রবীর কুমার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাঁদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ফেরার পথে তাঁতীবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে প্রিজন ভ্যানটি থামানো হয়। তখন ভ্যানের ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ভ্যানের তালা খুলে দেন।
এ সময় ‘পিচ্চি রাজা’সহ দুজন হাজতিকে ভ্যান থেকে নামানো হয়। পরে অন্য হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনের দিকে বসানো হলেও ‘পিচ্চি রাজাকে’ আর ভেতরে নেওয়া হয়নি বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারের দাবি, রাস্তার পাশে আগে থেকেই একটি প্রাইভেট কার অপেক্ষা করছিল। ওই গাড়িতে ‘পিচ্চি রাজাকে’ তুলে দেন এসআই প্রবীর কুমার। এরপর তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখিয়ে আবার পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন।
ইসরাইল হাওলাদার বলেন, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, ‘পিচ্চি রাজা’ গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে পালাননি; তিনি ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই প্রিজন ভ্যান থেকে বেরিয়ে যান।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আদালতের কার্যক্রম শেষে আসামিদের বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় থামানো হয়। তখন এসআই প্রবীর কুমার ‘পিচ্চি রাজাকে’ শৌচকর্মের জন্য ভ্যান থেকে নামালে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে বাকি ২৯ আসামিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।
পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি। তদন্তের অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। সেখান থেকেই ‘পিচ্চি রাজা’ বাইমাইল থেকে নয়, বরং ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালানোর তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১০৬ বার পড়া হয়েছে