কলাপাড়ায় ৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরে পেল ‘স্বনির্ভর খাল’, স্বস্তিতে কৃষক
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর পুনর্খনন করা হলো ঐতিহাসিক ‘স্বনির্ভর খাল’। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর ফসলি জমিতে চাষাবাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত ‘স্বনির্ভর খাল’ পুনর্খননের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১৪৫০ মিটার দীর্ঘ খাল খনন করা হয়েছে। যার উপরিভাগের প্রস্থ ২২ মিটার এবং তলদেশের প্রস্থ ১২ মিটার। ১ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ২৭৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
শুধু খাল খননই নয়, স্থানীয় পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনে খালের দুই পাড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হয়েছে লাল-সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বেড়া। দীর্ঘ ৪৫ বছর অবহেলিত থাকা এই খালটি নতুন রূপ পাওয়ায় বালিয়াতলী বাজারসহ সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কলাপাড়া সফরে এসে স্থানীয় কৃষির উন্নয়নে এই স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দখল ও পলি জমে খালটি প্রায় মৃত অবস্থায় ছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির অভাবে এলাকার প্রায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদি থাকত এবং লবণাক্ত পানির কারণে গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হতো।
স্থানীয় মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিবর রহমান খন্দকার জানান, দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে এবং এলাকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে