সর্বশেষ

অর্থনীতি

আজ নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নজরে মূল্যস্ফীতি ও ঋণপ্রবাহ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলনে এ নীতি ঘোষণা করা হবে। নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যাংকঋণের প্রবাহে গতি ফেরানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, মুখপাত্র ও সহকারী মুখপাত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় দেশের অর্থনীতিতে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়ানো। দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম থাকায় সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রত্যাশিত হারে যাচ্ছে না।

বিশেষ করে শিল্প, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে নতুন ঋণের চাহিদা কম। ফলে ব্যাংকিং খাতে অর্থের জোগান থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না।

এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগে গতি ফেরানো ছিল এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে নীতি সুদহার কমানোর পরও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছাড়ায়নি।

এ কারণে নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকবে, নাকি আরও সমন্বয় করা হবে—সেদিকে নজর রয়েছে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টের মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ এখনো রয়েছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে বছরে দুইবারের পরিবর্তে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে বছরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত নীতিগত সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

নিয়মিত বিরতিতে মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করা হলে মূল্যস্ফীতি, ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও তারল্যের পরিবর্তন বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সময়মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ, ঋণের খরচ ও সুদের হারে প্রভাব ফেলে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে চাহিদা নিয়ন্ত্রণে নীতি কঠোর করা হয়। আবার বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি কমে গেলে ঋণ ও অর্থের প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

রেপো ও রিভার্স রেপোসহ বিভিন্ন বাজারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কী ধরনের নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
অর্থনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০