মহিপুরে জমি বিরোধে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগ
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের পর তাঁর শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে বিলে ফেলে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই হামলার ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই বর্বরোচিত ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বেতকাটা গ্রামের আবদুল বারেকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের মাঝের পাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম গংদের দীর্ঘদিন ধরে ৭ দশমিক ০১ একর জমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মামলা চলছে। বিরোধপূর্ণ এই জমিটি আবদুল বারেকের দখলেই ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে প্রতিপক্ষরা তাঁর কাছে এক একর জমি ও সাত লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ঘেরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রাণভয়ে আবদুল বারেক বাড়িছাড়া ছিলেন।
শনিবার ভোররাতে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত বারেকের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর পুত্রবধূ শাহিনুর বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ওই দিন রাত আটটার দিকে প্রতিপক্ষরা পুনরায় বাড়িতে হানা দিয়ে আবদুল বারেকের স্ত্রী কহিনুর বেগমকে মারধর করে হাত, পা ও মুখ বেঁধে পাশের বিলে ফেলে দেয় এবং বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে সম্পূর্ণ ঘরটি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
তবে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বারেকের পরিবারের সঙ্গে অন্য এক প্রতিবেশীর মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১২২ বার পড়া হয়েছে