এশিয়ান গেমসে ফাইনাল খেলাই লিটনের লক্ষ্য
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে সেবার ভারত, পাকিস্তানের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো মূল দল পাঠায়নি। এবার চিত্রটা ভিন্ন। শ্রীলঙ্কা ছাড়া ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় সব দলই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে এশিয়ান গেমসে এসেছে। তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। তাঁর লক্ষ্য, এশিয়ান গেমসে ভালো খেলে ফাইনালে ওঠা।
এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়ার আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন লিটন দাস। তাঁর মতে, দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ায় এবারের ক্যাম্প থেকে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
লিটন বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুটো প্র্যাকটিস গেম খেলার সুযোগ পেয়েছি। অনেকদিন পর একসঙ্গে হওয়ার একটা সুযোগ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা খুবই ভালো অবস্থায় আছি।’
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর মতে, যেহেতু দল একটি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছে, তাই ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি সেখানে ভালো কিছু করাই হবে মূল লক্ষ্য।
লিটন বলেন, ‘অবশ্যই এখানে একটা লক্ষ্য থাকবে। যেহেতু একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ফাইনাল খেলা এবং ফাইনালে ভালো কিছু করা।’
এবারের এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনার লড়াইয়ে ভারত, পাকিস্তানসহ শক্তিশালী কয়েকটি দল থাকলেও প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা করে ভাবতে চান না লিটন। তাঁর মতে, যেকোনো টুর্নামেন্টে ভালো করার জন্য নিজেদের প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্ট খেলতে গেলে কে প্রতিপক্ষ হবে, তার চেয়ে বড় প্রস্তুতি থাকে। আমরা সব দলের জন্যই প্রস্তুত এবং নিজেদের যে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেটাই করেছি।’
সাইফউদ্দিনের জায়গায় দলে কে আসবেন, সেটিও নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন লিটন। এ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের প্রস্তুতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনা জেতার পাশাপাশি ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার সম্ভাবনাকেও বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন লিটন। তবে সে জন্য আগে এশিয়ান গেমসে ভালো করার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘অলিম্পিক কে না খেলতে চাইবে! প্রথমত আমরা যে ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি, আমরা যদি এই ইভেন্টটা ভালো খেলি, আমার মনে হয় চূড়ান্ত জায়গায় আমরা পৌঁছে যাব। ফোকাস হচ্ছে এই ইভেন্টটা কীভাবে ভালো খেলতে পারি এবং কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি। ফাইনাল খেললে গোল্ড জেতার সুযোগ থাকবে। তার আগে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে।’
এশিয়ান গেমসের মতো বড় মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্টে প্রথমবার অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও রোমাঞ্চিত লিটন। জাতীয় দলের হয়ে খেলার পাশাপাশি এমন আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকেও বড় বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশে পেস-বোলিং অলরাউন্ডারের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেছেন লিটন। তাঁর মতে, বর্তমানে এই ভূমিকায় খেলা তিনজন অলরাউন্ডারই চোটে থাকায় ঘাটতিটা স্পষ্ট হয়েছে। তবে তরুণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে কাজ চলছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে তাঁদের মধ্য থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আশা করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চাহিদা বাড়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন লিটন। তাঁর মতে, নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পেলে একজন ক্রিকেটারের মাধ্যমে অন্যদের জন্যও সুযোগের দরজা খুলতে পারে। এতে দেশের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা অর্জন ও পারফরম্যান্স করার সুযোগ বাড়বে।
নিজের ব্যাটিং ফর্ম নিয়েও কথা বলেছেন লিটন। রান করার জন্য তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। নিচের দিকে ব্যাটিংয়ের জন্য দলে কয়েকজন ক্রিকেটার প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি দলে ফিরে ভালো করা রাব্বির উদাহরণ টেনে লিটন বলেন, যারা ভালো ক্রিকেট খেলবে, তাঁদেরই সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে