সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য তেহরান প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই। তিনি জানিয়েছেন, এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে ইরান সাতটি শর্ত স্পষ্ট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ইরানের জব্দ বা অবরুদ্ধ অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মহসিন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা শুরুর ক্ষেত্রে ইরানের শর্তগুলো পরিষ্কার। কাতার এরই মধ্যে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ইরানের শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই ভালো হবে। ট্রাম্পের হুমকিতে ইরান পিছু হটবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য ইরান প্রস্তুত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও সংঘাত অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। সেই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানি সামরিক বাহিনীর মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আবারও বিমান হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রেজাই জানান, আগের দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর ইরানের সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজকে বিবেচনায় রেখেই ইরানের বর্তমান সামরিক কৌশল সাজানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা বিমানবাহী রণতরীর কাছে একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবিও করেন রেজাই।

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে এর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মার্কিন কোম্পানিগুলোও ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে।

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেজাই বলেন, বাস্তবতার দিক থেকে যুদ্ধ এখনো চলছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরান কৌশলগতভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন রেজাই। তিনি জানান, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে সরে আসার বিষয়ে তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ ইরানকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

রেজাই আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা বা ফতোয়ার বিধানও ইরান এখনো মেনে চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০