ইরানি নেতাদের জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের মধ্যেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিদলে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা থাকবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। তবে এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হবে।
এ ছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এসব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির অংশ।
এবারের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসানে এখনো সুস্পষ্ট কোনো সমাধান দেখা যায়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে হুতি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিতির অনুমতি কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যেও জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে