ফরিদপুরে সাপ ধরতে গিয়ে ওঝার মৃত্যু, বাবার ঝাড়ফুঁকেও বাঁচল না প্রাণ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুরে সাপ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে আলমগীর ওঝা নামের এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। কামড়ের পর হাসপাতালে না গিয়ে বাবার কাছ থেকে ওঝা পদ্ধতিতে ঝাড়ফুঁক নেওয়ায় চিকিৎসায় বিলম্ব ঘটে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সাপ ধরতে গিয়ে বিষাক্ত দংশনের শিকার হয়ে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের সলেনামা গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর স্থানীয় এলাকায় একজন ওঝা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর বাবা সত্তার ওঝাও একই পেশায় যুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাপ ধরার সময় আলমগীরকে বিষধর সাপ কামড় দেয়। তবে তিনি দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে সলেনামা গ্রামের বাড়িতে নিজের বাবার কাছে যান। সেখানে তাঁর বাবা সত্তার ওঝা দীর্ঘ সময় ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষ নামানোর চেষ্টা চালান।
ঝাড়ফুঁকের একপর্যায়ে আলমগীরের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। তখন স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।
চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর ওঝার ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে হাসপাতালে আসতে দেরি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিষধর সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে প্রথম সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় রোগীর জীবনহানির ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ফরিদপুরের সদরপুর ও চরভদ্রাসন এলাকায় বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তাই স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন থেকে সাপ দেখা মাত্রই কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং ওঝাদের অন্ধবিশ্বাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে