কলাপাড়ায় ৬৫ বছরের ভোগদখলীয় জমিতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৬৫ বছর ধরে ভোগদখল করা জমিতে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মাছের ঘের লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ কৃষক আবদুল বারেক হাওলাদার কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৮২ বছর বয়সী আবদুল বারেক হাওলাদার জানান, তিনি মহিপুর থানার বেতকাটা চর গ্রামের একজন ভূমিহীন কৃষক। সরকারের কাছ থেকে ১৯৫৪-৫৫ সালে বন্দোবস্ত পেয়ে কলাপাড়া উপজেলার সোনাপাড়া মৌজায় ৭.০১ একর খাস জমি দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। সেখানে তিনি বাড়িঘর, পুকুর ও বাগান তৈরি করে সপরিবারে বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০১২ সাল থেকে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম, ফোরকান, ফারুক ও তাদের সহযোগীরা এই জমি নিজেদের দাবি করে হয়রানি শুরু করে। এই নিয়ে দীর্ঘদিন আদালত ও উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি মহামান্য হাইকোর্ট এই জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এই আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষরা তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়।
আবদুল বারেক হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এই বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অবহিত করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি, উল্টো তাঁকে জমি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সপরিবারে ঘরছাড়া হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, আবদুল বারেকের মাত্র দেড় একর জমির কার্ড থাকলেও তিনি ভুয়া পর্চা বানিয়ে ৭ একর জমি দাবি করছেন এবং কোনো স্থানীয় সালিশ মানছেন না।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা থাকার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে