ফরিদপুরে হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশ হেফাজতে থাকা বাসে আগুন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশ হেফাজতে থাকা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া এই রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিকল্পিত নাশকতার দাবি করেছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফরিদপুরে বাসে আগুন দেওয়ার এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনে পার্কিং করে রাখা বাসটিতে শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। খবর পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে বাসটির প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পুড়ে যাওয়া বাসটি গত ৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার নিহত হওয়ার পর থেকেই সেটি করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে থানার পাশে রাখা ছিল।
পূর্বাশা পরিবহনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত নাশকতা। তিনি জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিতে কোনো ব্যাটারি কিংবা দাহ্য পদার্থ ছিল না, যার ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো সুযোগই নেই। দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিকে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন শিথিল এই ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ সংগঠনের হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতেই হয়তো এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ বলেন, আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান জানান, এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাবহির্ভূত হওয়ায় তদন্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে, তবে পুলিশ প্রযুক্তি ও সনাতন উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
১১২ বার পড়া হয়েছে