সর্বশেষ

জাতীয়

বিরোধীদের কর্মসূচির পাশাপাশি সংকটে বিকল্প পরিকল্পনা চাইলেন রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের কর্মসূচি ও সরকারের সমালোচনা স্বাভাবিক বিষয়। তবে সমালোচনার পাশাপাশি দেশের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা ও কার্যকর পরামর্শও দিতে হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দল গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে লংমার্চ বা বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে পারে। এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে একই সঙ্গে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, কোথা থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা সম্ভব এবং কী পদক্ষেপ নিলে সংকট মোকাবিলা করা যাবে—এসব বিষয়ে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়াও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সেখানে সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। তবে শুধু সমালোচনা না করে সরকারকে সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

রিজভী বলেন, ‘শুধু কর্মসূচির কথা শুনছি। বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকবে, এটা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু অতীতের পুনরাবৃত্তি করলে সেটা আবার অতীতের সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাবে। এতে অন্ধকার আরও ঘনিয়ে আসবে।’

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা তৈরি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে।

রিজভী বলেন, বর্তমান সংকট সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে তৈরি হয়েছে—এমনটা বলা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহের সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো, কলকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ‘পরিকল্পিত অচলাবস্থা’ তৈরি না করে সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে নৃত্যকলা নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, নৃত্য সম্পর্কে তাঁর বিশেষজ্ঞ জ্ঞান নেই। তবে গান ও বাদ্যের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশিত হলে তা মানুষের মনকে নির্মল করে এবং দর্শকের মধ্যে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি করে।

নৃত্যকে একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গীত ও বাদ্যের ছন্দে শরীরের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে ভাব, অনুভূতি ও চিত্রকল্প প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধারার নৃত্য বিকশিত হয়েছে। বাংলাদেশেরও সমৃদ্ধ লোকজ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।

রিজভী বলেন, শাস্ত্রীয়, লোকজ ও আধুনিক নৃত্যের পাশাপাশি লেটো দল, কবিগান, ঘুমুরা ও বাউল সংস্কৃতিতেও গান, অভিনয় ও শরীরের অঙ্গভঙ্গির সমন্বয় দেখা যায়। এসব ঐতিহ্য ধারণ করে সময়ের সঙ্গে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে।

জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গান ও নৃত্য মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করে আন্দোলনের স্রোতকে আরও শক্তিশালী করেছিল। ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিবেশনা মানুষের মধ্যে বাধা অতিক্রম করার সাহস ও উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের ইতিবাচক দিকগুলো ধারণ করার পাশাপাশি অমানবিক ও বৈষম্যমূলক প্রথা পরিহারের ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। সতীদাহ প্রথার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে সমাজে এমন অনেক অমানবিক প্রথা ছিল, যেগুলো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে কখনো কখনো উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যের ভালো বিষয়গুলো ধরে রেখে অমানবিক ও বৈষম্যমূলক দিকগুলো বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা সংস্কৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রিজভী আরও বলেন, শিল্প, সংগীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চা সমাজে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক চর্চা হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও নেতিবাচক মানসিকতার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ ছাড়া বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমদ উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান (সাইদ সোহরাব), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন