ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ, নিহত ৫
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরের একটি বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। তাঁর দাবি, ওই সময় বাড়িটিতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু। আহতদের কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্য প্রকাশ করেছে। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই সে আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছিল। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরা ছিটকে এসে তার মুখ ও মাথায় লাগে। তার দাবি, অনুষ্ঠানে থাকা অন্য অনেক বেসামরিক মানুষও আহত হন।
কুহেস্তাকের পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে দেশটির আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে। কুয়েতও জানিয়েছে, দেশটির আকাশে কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরও দাবি করেছে, এসব হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, সমুদ্রপথে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়েও উত্তেজনা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রণালিটি ইরান অবরোধ করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ হামলার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলাকে এর আগে সংঘটিত হামলাগুলোর ধারাবাহিকতার বাইরে দেখা যায় না। এ সময় তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব ও লামার্দ শহরে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার কথাও উল্লেখ করেন।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আর লামার্দের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হামলায় নিহত হন অন্তত ২১ জন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে