ইমরান খানকে একাকী কারাবাসে না রাখার নির্দেশ ইসলামাবাদ হাইকোর্ট
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে একাকী কারাবাসে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইমরানের ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এসব নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি খাদিম হুসাইন সোমরো এ আদেশ জারি করেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানকে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর ছেলেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।
তবে আদালত বলেছেন, টেলিফোনে কথোপকথনের সুযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে কারা কর্তৃপক্ষ ওই সুবিধা বন্ধ করতে পারবে।
কারাবন্দী ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি কারাবিধি অনুযায়ী তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এর আগে আদালত ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আদালতের দেওয়া নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে।
ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা এর আগে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক তাঁর চিকিৎসা ও কারাবন্দী অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আছেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরানের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরানের বোন আলিমা খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। পাশাপাশি বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকাও পৃথক একটি মামলা করেন। এসব আবেদনের শুনানির পর আদালত কারাগারে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যোগাযোগ, বই-সংবাদপত্র সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে