সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ৪ হাজার

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের এক সপ্তাহ পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। দেশটির একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনো ৬৩৯ জন আটকা পড়ে আছেন। দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে ভারী যন্ত্রপাতি, হেলিকপ্টার ও খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,০৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটিতে এখনো প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মঙ্গলবার উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র। দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর জন্য অস্থায়ী সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনো অন্তত ৬৩৯ জন আটকা পড়ে আছেন। তাঁদের নিরাপদে বের করে আনাই বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। চীন, ভারত ও নেপালের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলোও দুর্গম এলাকাগুলোতে কাজ করছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়া কর্মীদের উদ্ধারে খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। এরপর বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত হড়পা বান আকারে নেমে আসে। নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাবে জানিয়েছে, দুর্যোগের পর ওই এলাকায় অন্তত ২২ লাখ টন আবর্জনা জমেছে। এর মধ্যে ধ্বংস হওয়া ভবনের অংশ, পাথর ও কাদা রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ও বসতবাড়ি পুনর্গঠন করা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

শাহ আরও জানান, নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২৭৯ জন কর্মীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

দুর্যোগের পর নেপাল প্রথমদিকে সাধারণ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে বিদেশি দলগুলোর অংশগ্রহণে অনাগ্রহী ছিল। তবে পরে লাইফ-ডিটেকশন যন্ত্র, বড় রেফ্রিজারেটর এবং আগে থেকে তৈরি করা সেতুর মতো বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজনের কথা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী শাহের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর নেপালে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ২০ লাখের বেশি মূল্যের ত্রাণ পৌঁছেছে। সামনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে দেশটি।

রসুয়া জেলার এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে পালানোর সময় তাঁরা প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ পাননি। বৃষ্টিতে ভেজা পরনের কাপড়ই এখন তাঁদের একমাত্র সম্বল। পরে অন্য বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে হেঁটে নুয়াকোট শহরে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেন।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন