যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি কার্যকরের আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা এ স্থগিতাদেশের আওতায় পড়ছেন না বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতের আগের নীতি আদালতের আদেশে বাতিল হওয়ার পর নতুন করে ভিসা প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এবার এই পদক্ষেপের সঙ্গে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির বিষয়টি যুক্ত রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতির লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি তহবিল বা বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন—এমন অভিবাসীদের আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সাময়িক বিরতি আগস্টের শুরুতে শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার কথা। আগস্টে যেসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নির্ধারিত ছিল, সেগুলো বাতিল করা হয়নি। বরং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সাক্ষাৎকারগুলো নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের ওপর পড়তে পারে। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং ভাই-বোনের মতো পরিবারের সদস্যদের জন্য করা পারিবারিক অভিবাসন ভিসার আবেদন এতে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মার্কিন কোনো নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা এই বিরতির আওতায় পড়ছেন না বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এসব আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও আয়ের সুযোগ থাকায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
এর আগে জানুয়ারি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার একটি নীতি কার্যকর ছিল। পরে আদালতের আদেশে সেই নীতি বাতিল হয়। ফলে নতুন করে ভিসা প্রক্রিয়ায় এই সাময়িক বিরতি নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা ব্যবসা ও পর্যটন ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করছেন, তাঁদের প্রায় দুই লাখের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা এবং নতুন অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাঁদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসা বাতিল হলেও চলমান আশ্রয় আবেদনের ওপর সরাসরি এর প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, আশ্রয়ের আবেদন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের অবস্থানের আইনি ভিত্তি মূল ভিসার পরিবর্তে চলমান আশ্রয় আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়।
১১৭ বার পড়া হয়েছে